মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ব্র্যান্ডিং

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ডিং: অগ্রগতি পর্যালোচনা, সুপারিশ, কর্মপরিকল্পনা, লোগো ট্যাগলাইন

ব্র্যান্ডিং কি: ব্যবহারকারির মনে একটি পণ্যের ইউনিক বা অনন্য নাম এবং পরিচিতি তৈরি করাকে ব্র্যান্ডিং বলা হয়। এক কথায় বলতে গেলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে আপনার ক্রেতা বা কাস্টোমারের প্রতি আপনার পণ্যের মান ও সেবার প্রতিশ্রুতি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

আম, কাঁসা, পিতল, লাক্ষা, নকশি, কাঁথা ও রেশমের জন্য বিখ্যাত এবং গম্ভীরা, আলকাপ, মেয়েলি গীতের মতো লোক-উপাদানে সমৃদ্ধ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুক ধরে রাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক সময় ছিল প্রাচীন  বাংলার রাজধানী গৌড়ের এক উল্লেখযোগ্য জনপদ। ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত), দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা (১৪৭৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত) এর ধ্বংসাবশেষ, শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রঃ)- এর মাজার ও তোহাখানা মসজিদ (১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত) হযরত শাহ্ খঞ্জনদিঘির মসজিদ, চাঁপাই জামে মসজিদ প্রভৃতি মসজিদ স্থাপত্যকলা এবং মকরমপুর ঘাটে বল্লাল সেন কর্তৃক নির্মিত শ্মাশানবাড়ির ধ্বংসাবশেষ (১১৫৮-৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) নওদার স্ত্তপ বা ষাঢ় বুরুজ (১১৭৯-১২৩৫ খ্রিষ্টাব্দ) নাধাইয়ের জমিদার বাড়ি, নাচোলের রাজবাড়ি, জোড়ামঠ প্রভৃতি হিন্দু স্থাপত্যকলার নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্বের পরিচায়ক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। স্বদেশি ও বহিঃশক্তির প্রতিরোধে যুগে যুগে এ জেলার মানুষের বুকের তাজা রক্তে সিক্ত হয়েছে বরেন্দ্র ভূমির এই তৃপ্তভূমি। কৃষকের রক্তে প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি রাঙা হয়ে ওঠে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে রামচন্দ্রপুরহাটে নীলকর জন ক্লাউনের বিরুদ্ধে সংঘটিত নীল বিদ্রোহে। তারপর ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের জিতুবোটকা ও মানু সরদারের নেতৃত্বে সংঘটিত সাঁওতালদের বিদ্রোহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে রক্ত ঝরে। এরপর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ইলা মিত্র ও রমেন মিত্রের নেতৃত্বে তেভাগার দাবিতে সংঘটিত নাচোলের কৃষক বিদ্রোহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংগ্রাম মুখর হয়ে ওঠে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবময়।

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

এ প্রাচীন ভূমি আদিকাল থেকেই কয়েকটি কৃষি পণ্যের জন্য প্রসিদ্ধ, তন্মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত অতুলনীয় স্বাদের বিভিন্ন জাতের আমের জন্য । এ জেলাকে বাংলাদেশের আমের রাজধানী বলা হয় । বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ভূমিরূপ ও জলবায়ুর কারণে এ জেলা ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত, আশ্বিনা প্রভৃতি আমের উৎপাদনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন । চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলাধীন কানসাট আম বাজার বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম । জেলা প্রশাসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইতোমধ্যেই জেলার আম সম্পদ উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে । এ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ জেলা ব্র্যান্ডিং প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । তৈরি করা হয়েছে জেলা ব্র্যান্ডিং এর লোগো, ট্যাগলাইন, ফেসবুক গ্রুপ ও ফেসবুক পেইজ (সংলাগ-১) । এছাড়া জেলা প্রশাসন এ জেলার তিনটি আম উপপ্রজাতি, যথাক্রমে খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা-কে GI পণ্য হিসাবে নিবন্ধনের জন্য আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (সাবেক আম গবেষনা কেন্দ্র) এর সাথে পর্যালোচনাক্রমে নির্ধারিত ফরম্যাটে ফি সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করেছে ।  এ জেলার আম সম্পদ সম্পর্কিত কয়েকটি প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেয়া হ’ল:

  • ২০১৭ সালে ২৬১৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে ।
  • ২০১৬ সালে ২,৪০,০০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে, যা একক জেলা হিসেবে দেশে সর্বোচ্চ ।
  • আম চাষে এ জেলা সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ । ২০১৬ সালে ৪৮ জাতের  আম উৎপাদিত হয়েছে ।
  • ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, আশ্বিনা- এ তিন জাতের আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিওগ্রাফিক ইন্ডিকেটর পণ্য হিসাবে নিবন্ধিত হয়েছে; অন্যান্য জাতের আম নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । 
  • দেশের একমাত্র আম গবেষণা কেন্দ্র এ জেলায় অবস্থিত, যা নতুন স্থানীয় জাত উদ্ভাবন ছাড়াও Good Agricultural Practice, Source of Origin, আমের বিভিন্ন জাতের Gene pool সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে ।
  • ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য, ইতালী, সুইডেন, কুয়েতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ১১০ মেট্রিক টন আম রপ্তানী হয়েছে
  • জেলা প্রশাসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ সহ এর মাধ্যমে জেলা ব্র্যান্ডিং এর জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রেণি, পেশার মানুষের পরামর্শ / মতামত এবং সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালক, জিআইইউ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এঁর সুপারিশ / নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে ।
  • জেলা ব্র্যান্ডিং এ সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসন মতবিনিময় সভা, সোশ্যাল মিডিয়া, জেলা তথ্য বাতায়ন, মহানন্দা কমিউনিটি রেডিও ব্যবহার করছে । এছাড়া বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় জেলা ব্র্যান্ডিং এর লোগো ও ট্যাগলাইন ব্যবহার করা হয়েছে । জেলা প্রশাসনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে জেলায় আম ভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ । সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাছে অবস্থিত বন্ধ, পরিত্যক্ত পর্যটন মোটেলটি চালু করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে পর্যটন করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটে পত্রযোগাযোগ করা হয়েছে । জেলা প্রশাসন Mango tourism কে কেন্দ্র করে স্থানীয় নকশিকাঁথা, কাঁসার সামগ্রী, কলাই রুটি-কে জেলার আকর্ষণীয়, নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত পণ্য হিসাবে তুলে ধরতে আগ্রহী । এ লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোগকেও উৎসাহ দেয়া হয়েছে ।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যান্য লোকশিল্প:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে শিবগঞ্জ উপজেলার লোকশিল্প তাঁত শিল্পের সুখ-দুঃখের ইতিহাস। আমরা যাকে রাজশাহী সিল্ক বলে থাকি এবং সারা দেশের মানুষ যাকে রাজশাহী সিল্ক বলে থাকে মূলত তা শিবগঞ্জে এবং নবাবগঞ্জ সদর উপজেলাতে তৈরি হয়। এখানকার এই তাঁতশিল্পীরা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায়, যুগ-যুগ ধরে তাদের এই পেশাকে টিকিয়ে রেখেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই তাঁতশিল্পীরা অভাব অনটনকে উপেক্ষা করে টিকিয়ে রেখেছে হাজার বছরের বাংলার লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গম্ভীরা, An Intangible Cultural Heritage:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম, কাঁসা, রেশমের ঐতিহ্য ধারণ করার সাথে সাথে লোকসংস্কৃতির এক ঐতিহ্যময় ধারা গম্ভীরাকে স্নেহময়ী জননীর মতো বহুদিন থেকেই লালন করে আসছে। ভারতের পশ্চিম বাংলার সাথে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গম্ভীরার পার্থক্য আছে। দেশ স্বাধীন হবার পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গম্ভীরা গান নানা নাতির পরিবেশনায় খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৭২/৭৩ সালের পরের থেকে গম্ভীরা গানকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে কুতুবুল আলম, রাকিব উদ্দীন, বীরেন ঘোষের অবদান সর্বজন স্বীকৃত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে ১১ টি দল আছে- যারা সারা বছর ধরেই কোন কোন সময়ে গম্ভীরা গান করে থাকে ।

 

ছবি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দুর্লভ সান্নিধ্যে গম্ভীরা শিল্পী কুতুবুল আলম, ১৯৭৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিবাসি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’র রয়েছে নিজস্বতায় সমৃদ্ধ সংস্কৃতি । যেমন, সাঁওতালদের সোহরাই, বাহা, এরো উৎসব; ওঁরাও-দের কারাম, ফাগুয়া প্রভৃতি উৎসবে পরিবেশিত লোকগীতি ও অন্যান্য উপাচার আকর্ষণীয় ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত । চাঁপাইনবাবগঞ্জের  গম্ভীরা সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এনজিও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে UNESCO’র মাধ্যমে Intangible cultural heritage হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্র্যান্ডিং- পর্যটনের ভূমিকা:

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পর্যটন শিল্পের সাথে কতজন লোক জড়িত?
  • বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ এর ধারা-২(১) অনুসারে পর্যটন' অর্থে মানুষের স্বাভাবিক বসবাসের স্থান হইতে অন্য কোন স্থানে উপার্জনমূলক কর্মসংস্থান ব্যতীত বিনোদনসহ অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে গমন করিয়া অনধিক ০১ (এক) বৎসর অবস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকান্ডকে বুঝাইবে ।‍এই সংজ্ঞার আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অদ্যাবধি পর্যটন সমীক্ষা করা হয়নি ।Bangladesh Bureau of Statistics এর Economic Census 2013: District Report Chapainawabganj-এএতদসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি ।

 

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আগত পর্যটকের বার্ষিক সংখ্যা কত?
  • তথ্য নাই ।

 

  • জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিরূপ?

ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ

রাজধানী শহরের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সরাসরি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়ক দূরত্ব ৩১৭ কিলোমিটার। ঢাকাস্থ গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন অনেকগুলো পরিবহন সংস্থার অসংখ্য বাস ছেড়ে আসে। পক্ষান্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও ঐসব সংস্থার বাস নিয়মিত ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উল্লেখযোগ্য পরিবহন সংস্থার নাম ও যোগাযোগের সূত্র নিচে দেওয়া হলঃ

 

ক্র. নং

পরিবহন সংস্থার নাম

ঢাকা কাউন্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কাউন্টার

যাত্রী প্রতি ভাড়া

হানিফ এন্টারপ্রাইজ

০১৮১৩০৪৯৫৪৩

০১৭১৩-২০১৭০১

৫০০/-নন-এসি

দেশ ট্র্যাভেলস

০১৭৬২৬৮৪৪০

০১৭৬২৬৮৪৪০১

১১০০/- এসি

৫০০/- নন-এসি

ন্যাশনাল ট্রাভেলস

০১৭১১২২৮২৮৬

০১৭৩০-০৭৩২৬৮

৫০০/-নন-এসি

 

প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত অবধি এ সমস্ত পরিবহন সংস্থার যাত্রীবাহী বাস একঘন্টা/আধাঘন্টা অন্তর ঢাকা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করে। এ সবের বাইরে লতা, নাহার, সাথী, দূরদূরান্ত ইত্যাদি পরিবহন সংস্থার বাসও প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে।বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে বিআরটিসি বাস ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল না করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়মিতভাবে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ফরিদপুর ও বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

রেলপথে ঢাকার সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সরাসরি যোগাযোগ নেই। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার উদ্দেশ্যে দুটি পৃথক ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। আশা করা যাচ্ছে, অতি শীঘ্রই চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ঢাকা রুটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করবে।

 

 

 

 

জেলার অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থা

জেলা সদরের সঙ্গে আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ মূলত সড়ক পথেই হয়ে থাকে। তবে নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা সদর ও জেলা শহরের মাঝে অসংখ্য বাস, মিনিবাস ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করে।

 

  • জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পর্যটন এবং আম-কে নির্বাচন করার যৌক্তিকতা কি?
  • কর্তৃক প্রণীত জেলা- ব্র্যান্ডিং কৌশল (খসড়া)  এর ১.৯ নং অনুচ্ছেদে জেলা-ব্র্যান্ডিং নিম্নোক্ত ১১টি উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে:
  • জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতিসঞ্চার
  • জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণ
  • জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ
  • জেলা সম্পর্কে অধিবাসীদের গর্বের উপলব্ধি তৈরি
  • স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি
  • অবকাঠামোগত উন্নয়ন
  • এ সংক্রান্ত উদ্যোগসমূহকে কাঠামোবদ্ধ ও টেকসইকরণ
  • জেলার সর্বস্তরের মানুষকে উন্নয়ন অভিযাত্রায় শামিল করা এবং সামাজিক সংহতি সুদৃঢ়করণ
  • সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে উপস্থাপন
  • টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সহায়তা
  • সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন

 

  • উল্লিখিত ১১টি উদ্দেশ্যকে পর্যালোচনা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে পর্যটন-কে নয়, আম-কে নির্বাচন করা হয়েছে । ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ এই জেলা ব্র্যান্ডিং চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর জন্য সুনির্দিষ্ট রূপকল্প তৈরি করবে, যা জেলার সুসমন্বিত ও টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি হবে । এটি জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণ, জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে সহায়তা করবে । একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত করবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে ।
  • Working Group of EU Member States Experts এর Policy Paper on Cultural and Creative Industries (CCI)-এবলাহয়েছে, “Culture-based development has relevance for regions in all stages of development …CCIs contribute to economy, innovation, social wellbeing…It helps to promote well-being, to create lifestyle, to enrich the act of consumption, to stimulate confidence in communities and social cohesion.”  চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাকার সময় বিবাহিত মেয়েরা পিতার গৃহে ‘নাইওর’ যায়; এ জেলার সামাজিক উৎসব ও অনুষ্ঠান আম-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় সুপ্রাচীন কাল থেকে ।
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২৪,৪৭০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়, ২০১৭ সালে এটি ২৬,১৫০ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে । ২০১৬ সালে জেলায় আম গাছের সংখ্যা ছিল ১৮,৭৪,৯০০টি এবং বাংলাদেশের সর্বাধিক পরিমাণ ২,৪০,০০০ মেট্রিক টন আম এ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় ২৫% ।
  • দেশের একমাত্র আম গবেষণা কেন্দ্র (পরিবর্তিত নাম আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত । এ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন কানসাট আম বাজার বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং পৃথিবীতে ২য় বৃহত্তম আম বাজার হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে ।
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে এ জেলার আম এর তিনটি জাত (variety), যথাক্রমে ল্যাংড়া, খিরসাপাত এবং আশ্বিনা GI (Geographical Indication) পণ্য হিসাবে নিবন্ধনের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।

 

 

 

  • জেলার বেকারত্ব নিরসনে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটন / আমের অবদান কতটুকু?

 

  • Bangladesh Bureau of Statistics এরLabour Force Survey এর মাধ্যমে জাতীয়ভাবে বেকারত্বের হার / সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও জেলাওয়ারী তথ্য নাই মর্মে জেলা পরিসংখ্যান অফিস থেকে জানা যায় । জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের নিকটও এ সংক্রান্ত তথ্য নাই । এছাড়া Bangladesh Bureau of Statistics এর Economic Census 2013: District Report Chapainawabganj অনুযায়ী জেলায় ৯৬২৬১টি Economic Unit এ ২,৬৫,৬১০ জন ব্যক্তি নিয়োজিত আছে; কিন্তু এ প্রতিবেদন শুধুমাত্র Non-farm activities পর্যালোচনা করেছে । যদিও জেলায় কৃষক পরিবার রয়েছে ২,৬০,৮৮৩টি, কিন্তু তা এ প্রতিবেদনে যুক্ত নয় । বিধায়, জেলার বেকারত্বের হার নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি ।
  • যেহেতু বর্তমানে জেলার বেকারত্বের হার নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি; তাই, পরিসংখ্যানগত ভাবে এ প্রশ্নোত্তর সম্ভব নয় । এছাড়া পর্যটন এবং আম, এ দু’টি ক্ষেত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমগুরুত্ব বহন করে না । এ জেলায় আম উৎপাদন ও বিপণনে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার একটি বাজার সৃষ্টি হয়েছে (জেলা চেম্বার অব কমার্স ও আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী), যার সাথে পর্যটনের তেমন কোন প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই । চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রণীত কর্মপরিকল্পনা’ অনুযায়ী জেলায় Mango Tourism  উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে; তবে Scale of Economy বিবেচনা করলে এখন পর্যন্ত পর্যটন এ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে প্রধান নিয়ামক নয় ।

 

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাধীন শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০১২ সালে জেলার একমাত্র পর্যটন মোটেল নির্মাণ করা হয় । মোটেলটির ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর এর কার্যক্রম শুরু হয়নি । মোটেলটি চালু করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে একাধিকবার পত্রযোগাযোগ করা হয়েছে । সম্প্রতি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক ‘এনএইচটিটিআই-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ এবং সোনামসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন মোটেল পুনঃনির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন মোটেলটি চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।
  • জেলার পর্যটন কেন্দ্রসমূহ, যেমন: গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর সমাধি, হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রঃ) এর মাজার, মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন তিন গম্বুজ মসজিদ ও তাহখানা কমপ্লেক্স, সুপ্রাচীন দারসবাড়ি মসজিদ, খঞ্জনদিঘী মসজিদ, সোনামসজিদ স্থলবন্দর প্রভৃতি স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ।

 

  • জেলার পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তা কতজন আছে?
  • উপরোক্ত আলোচনায় জেলায় পর্যটন শিল্পের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়েছে । জেলার পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তা সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য নাই ।
  •  
  • আম চাষী বা পর্যটন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয় কি না?
  • আম চাষী বা পর্যটন উদ্যোক্তাদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয় ।

 

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে পর্যটকদের থাকার জন্য কতগুলো আবাসিক হোটেল এবং খাবার হোটেল আছে এবং এগুলোর বর্তমান অবস্থা কি?

হোটেল ও আবাসনের তালিকা

ক্রমিক

নাম

পরিচালনাকারী/মালিকের নাম / বর্তমান অবস্থা

(সবগুলো চলমান আছে)

হোটেল/মোটেল/রেস্তোরাঁ/রেস্ট হাউজ/গেস্ট হাউজ/ডাকবাংলো ইত্যাদির ঠিকানা

মোবাইল নং

 

হোটেল ও আবাসনের ধরণ : বেসরকারি

 

হোটেল রোজ

নহিদ আনোয়ার

(আনোয়ার হোসেন আনু)

হোটেল রোজ, স্টেশন রোড,(মহানন্দা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন),চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লাখেরাজপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।

০১৭৬১৮৫৫৪৭১

 

 

লাল বোডিং

মো: সেন্টু মিঞা

হোটেল লাল বোডিং, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জসদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১৮২৭৯৮৪১

 

 

হোটেল আল নাহিদ

আলহাজ রফিকুল ইসলাম

শান্তিমোড়, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১৩৩৭৬৯০২

 

 

হোটেল স্বপ্নপুরী

মো: বাবুল হাসনাত দুরুল

আরামবাগ মোড়, বিশ্ব রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১১৪১৬০৪১

 

 

নবাবগঞ্জ বোডিং

এ্যড: কাশেম মিঞা

হাসপাতাল রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১৫১৬৭৬৪৬

 

 

হোটেল রংধনু

মোসারফ হোসেন

লাখেরাজ পাড়া, মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১২৩৩৯৬৮৭

 

 

হোটেল নাজমা

 

কানসাট, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

   

 

হোটেল ও আবাসনের ধরণ : সরকারি

 

ডাকবাংলো

 

নাচোল বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

   

 

জেলা পরিষদ ডাকবাংলো

 

গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

   

 

ডাকবাংলো

 

তেলীপাড়া, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

   

 

খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফুড ক্লাব

আবু তাহের

চাঁপাই ফুড ক্লাব এন্ড পার্টি সেন্টার, ক্লাব সুপার মার্কেট, ৩য় তলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭১৬-৩০৩৮৩৮

টেলি: নং-০৭৮১-৬১১১১

 

আলাউদ্দিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট

আলহাজ্ব শাজাহান আলী

আলাউদ্দিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট উদয়ন মোড়, হুজরাপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭২০-৫০২০০৩

টেলি: নং-০৭৮১-৫২৪৫৭

 

আলাউদ্দিন চাইনিজ এন্ড ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট

জামাল উদ্দিন নাশের

আলাউদ্দিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট উদয়ন মোড়, হুজরাপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭২০-৫০২০০২

টেলি: নং-০৭৮১-৬২৫৫৭

 

তামান্ন সুইট এন্ড রেস্টুরেন্ট

মোঃ নাসির

তামান্ন সুইট এন্ড রেস্টুরেন্ট

বিশ্বরোড মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭২৯-৯৭০৩৪৬

 

ড্রিমস ক্যাফে

এইচ.এম.ফায়জার রহমান (কনক)

ড্রিমস ক্যাফে, ক্লাব সুপার মার্কেট

(৩য় তলা), চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০১৭৩৯-৩৯১৭১৭

০১৭৩৯-৩৯১৮১৮

 

 

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই তারকা মানের একটি আবাসিক হোটেলের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

  • জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো কি কি?
  • জেলা ব্র্যান্ডিং বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের মেন্টর মহোদয়, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি দপ্তরসমূহ, সংবাদ মাধ্যম, সুশীল সমাজ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় সভা আয়োজন  করে জেলা ব্র্যান্ডিং এর বিষয় নির্ধারণ;
  • জেলা ব্র্যান্ডিং এর লোগো তৈরি, ট্যাগলাইন নির্বাচন এবং প্রিন্ট / ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া, জেলা তথ্য বাতায়ন, নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা’র মাধ্যমে সর্বস্তরের জনসাধারণকে অবহিতকরণ, পরামর্শ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় সম্পাদনার কার্যক্রম গ্রহণ;
  • জেলা ব্র্যান্ড বুক প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ; 
  • বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র জেলা হিসাবে আম এর তিনটি জাতকে GI পণ্য হিসাবে নিবন্ধন;
  • জেলার আম সম্পদের সার্বিক উন্নয়ন ও এর ব্র্যান্ড ইমেজ প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ;

 

  • জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্ধ পর্যটন মোটেল চালুকরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে বাবু ডাইং এলাকায় পর্যটন স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ ।

********ব্র্যান্ডিংয়ের লক্ষ্য কাঙ্খিত ফলাফল নির্ধারণ

ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য কাঙ্খিত ফলাফল হবে:

  • জেলা ব্র্যান্ডিং এর অন্যতম লক্ষ্য হলো আম-কেন্দ্রিক একটি পর্যটন শিল্পের বিকাশ। আমের মুকুলায়ন হতে শুরু করে আমের বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সময়ে দেশীয় ও বিদেশী পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য পরিমান বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যার কোন ভিত্তি হিসাব (baseline) না থাকায় বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা এ পর্যায়ে সম্ভব হচ্ছে না।
  • আমের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আম-কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে সার্বিকভাবে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে।
  • “আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ” এই জেলা ব্র্যান্ডিং ইতোমধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে কৃষি ও আমভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছেন। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবান বিবেচনা করে আধুনিক ও মানসম্পন্ন হোটেল ও রেস্তোরা নির্মিত হচ্ছে। তবে বিনিয়োগের হার বৃদ্ধির তথ্য যথাযথ জরিপ ছাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।
  • এটুআই নির্ধারিত ছক অনুযায়ী  একটি প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

বিষয়

বর্তমান অবস্থা (২০১৭)

কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা

পণ্যের উৎপাদন

২,৪৩,০০০ মেট্রিক টন

৫.৫ % বৃদ্ধি

এখাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা

৬৫০০০ জন

১.২ % বৃদ্ধি

রপ্তানির পরিমান (রপ্তানিযোগ্য হলে)

২.৭৫ মেট্রিক টন

১৮১৮ % বৃদ্ধি (লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ মে.টন)

কর্মসংস্থান

১,৩০,০০০ টি পরিবার

২০% বৃদ্ধি

 

কাঙ্খিত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিচের এই সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে, যার চারটি উদ্দেশ্যপূরণে নির্ধারিত সূচক ও পরিমাপের একক সহ দায়িত্ববন্টন নির্ধারণ করা হয়েছে । এ উদ্দেশ্যগুলো পরস্পর নির্ভরশীল, অর্থ্যাৎ একটি উদ্দেশ্য সংক্রান্ত সূচক অর্জন অপরাপর সূচককে (একই উদ্দেশ্য ও অন্যান্য উদ্দেশ্য’র আওতায়) প্রভাবিত করবে ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জজেলা ব্র্যান্ডিং এর কর্মপরিকল্পনা

ভিশন :   বিষমুক্ত আম উৎপাদন, সরবরাহ, বাজারজাতকরণে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-কে প্রতিষ্ঠিতকরণ

মিশন :   ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হতে ১০০% বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ, বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে হবে ।

উদ্দেশ্য :

১।         ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১০০% আম উৎপাদন অনুমোদিত ও নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির আওতায় আনয়ন

২।         ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১০০% আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে Source of Origin নিশ্চিতকরণ

৩।         চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিষমুক্ত আম বাজারজাতকরণে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি

৪।         ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ’- জেলা ব্র্যান্ডিং এর প্রতিষ্ঠা

 

উদ্দেশ্য

কার্যক্রম

কর্মসম্পাদন সূচক

একক

লক্ষ্যমাত্রা

বাস্তবায়ন

১ । ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১০০% আম উৎপাদন অনুমোদিত ও নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির আওতায় আনয়ন

জানু-এপ্রিল

/১৭

মে-আগস্ট

/১৭

সেপ্টে-ডিসে

/১৭

জানু-এপ্রিল

/১৮

মে-আগস্ট

/১৮

সেপ্টে-ডিসে

/১৮

১.১. আম উৎপাদনের সকল পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে বার্ষিক  আম পঞ্জিকা প্রণয়ন

 প্রনীত

আম পঞ্জিকা

সংখ্যা

-

-

-

-

-

উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

১.২. আম চাষীদের বার্ষিক  আম পঞ্জিকা বিষয়ে প্রশিক্ষণ 

সম্পন্ন প্রশিক্ষণ

সংখ্যা

৪০০

৪০০

২০০

৪০০

৪০০

২০০

উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

১.৩. আম চাষীদের চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির ডকুমেন্টেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ

সম্পন্ন প্রশিক্ষণ

সংখ্যা

৪০০

৪০০

২০০

৪০০

৪০০

২০০

উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

১.৪. অবৈধ রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার রোধকল্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা

পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত

সংখ্যা

২০

৪০

২০

২০

৪০

২০

বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সকল)

২০১৮ সালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১০০% আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে Source of Origin নিশ্চিতকরণ

২.১. নির্ধারিত জাতের আম নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির আওতায় চাষ করছে এমন আম চাষীদের তালিকা তৈরি ও হালনাগাদকরণ

প্রস্তুতকৃত তালিকা

%

৫০

১০০

--

--

১০০

--

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (সকল)

২.২. ইউনিয়নভিত্তিক আম শ্রমিকদের ডাটাবেজ প্রস্তুত ও হালনাগাদকরণ

প্রস্তুতকৃত ডাটাবেজ

%

৫০

১০০

--

--

১০০

--

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সকল)

উপজেলা কৃষি অফিসার (সকল)

২.৩. তালিকাভুক্ত আমচাষীদের প্রশিক্ষণ ও চাষপদ্ধতির ধারাবাহিক ডকুমেন্টেশন

সম্পাদিত প্রতিবেদন

%

৫০

১০০

--

৫০

১০০

--

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (সকল)

২.৪. তালিকাভুক্ত আমচাষীদের পরিবীক্ষণ

 

 

 

 

কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন

%

১০০

১০০

১০০

১০০

১০০

১০০

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (সকল)

 

 

 

 

 

 

৩ । চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিষমুক্ত আম বাজারজাতকরণে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি

৩.১. প্রচার সংক্রান্ত উপকরণ প্রস্তুত (পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট)

প্রস্তুতকৃত উপকরণ

%

১০০

--

--

--

--

--

উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

৩.২.জেলা ওয়েব পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণা

সংযুক্ত পোস্ট

 

 

%

১০০

১০০

১০০

১০০

১০০

১০০

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সকল)

 

৩.৩. জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা / সেমিনার / কর্মশালা আয়োজন

আয়োজিত কর্মশালা / সেমিনার

সংখ্যা

২০

৩০

-

২০

৩০

-

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সকল), উপজেলা কৃষি অফিসার (সকল), ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান

(সকল)

৩.৪. স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ  

প্রকাশিত প্রতিবেদন

সংখ্যা

৪০০

৪০০

২০০

৪০০

৪০০

২০০

উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

সভাপতি, জেলা প্রেস ক্লাব / চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাব

৪ । আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলা ব্র্যান্ডিং এর প্রতিষ্ঠা

৪.১. ব্র্যান্ডিং কর্মকৌশল প্রস্তুত

ব্র্যান্ড বুক

সংখ্যা

--

--

--

--

--

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)

৪.২. জেলায় Mango Portal,  logo তৈরি

পূর্নাঙ্গ পোর্টাল ও অনুমোদিত লোগো

সংখ্যা

1

--

--

--

--

--

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)

৪.৩. জেলা ব্র্যান্ডিং উৎসব

কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন

সংখ্যা

1

--

--

--

--

--

জেলা প্রশাসন

৪.৪. GI পণ্য হিসাবে আমের বিভিন্ন জাত নিবন্ধন

নিবন্ধিত আমের জাত

সংখ্যা

 

 

 

জেলা প্রশাসন

৪.৫. Mango Festival

প্রতিবেদন

সংখ্যা

--

1

--

--

--

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন

 

                                 

 

 

Tagline: If Mango is the King of Fruits, then Chapainawabganj is its Capital

Logo:

 

www.chapainawabganj.gov.bd

www.facebook.com/the mango capital

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter